অসীমচন্দ্র-পাল.

অসীমচন্দ্র পাল

বই রিভিউ

আবার হেমন্ত আসুক আমাদের জীবনে 

🍁

তৈমুর খান 

🍁

প্রকৃতির আবহমান শিশুর মতোই শস্য-শ্যামলা বাংলার কবি অসীমচন্দ্র পাল। প্রকৃতির কোলে বেড়ে উঠেছেন বলেই প্রকৃতিকে পেয়েছেন এত নিবিড় ও আপন করে। কবির জীবনযাপনে, চালচলনে তাই প্রকৃতিই চরিত্র হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত তাঁর কাব্যগ্রন্থ ‘আবার যেন হেমন্ত আসে’ (অমর একুশে বইমেলা ২০২৩) আমার হাতে এসে পৌঁছেছে। অসীমচন্দ্র পাল বরাবরই এক সহজ মনের সহজিয়া প্রেমের কবি। তাই এই কাব্যটিও কবিপত্নী শিপা পালকে উৎসর্গ করেছেন। মোট ৫৫ টি ছন্দোবদ্ধ কবিতায় সমীর বিপ্লবের সুন্দর প্রচ্ছদে কাব্যটি পূর্ণতা পেয়েছে।

  বাংলার ঋতুবৈচিত্র্যের সঙ্গে মানব জীবনেরও ঋতুবৈচিত্র্যেরও গভীর সম্পর্ক আছে। মানব জীবনে কখনো খরা আসে,তখন শুরু হয় কালবৈশাখীর দুর্যোগ।আবার মানব জীবনে কখনো বসন্ত আসে,তখন পত্র-পুষ্পে পূর্ণ হয় জীবন। জীবনের এই পূর্ণতা,এই শূন্যতা চক্রাকারে পরিক্রমণ করে।এইসব ভাবনাকেই কবি অসীমচন্দ্র পাল কবিতাই ছন্দোবদ্ধ করেছেন। কিন্তু কৃষিপ্রধান দেশ এই বাংলাদেশ বলেই,শস্যের উপরে নির্ভর করে মানুষের জীবন।তাই হেমন্তকালই মানুষের গোলা ভরে দেয়।প্রধান খাদ্য ভাতের জন্যই ধান উৎপাদন জরুরি হয়ে পড়ে।সুতরাং হেমন্তকালই পূর্ণতার ঋতু।কবিও কাব্যের নাম রেখেছেন এই হেমন্তকে নিয়েই।হেমন্তকাল আসার জন্যই সারা বছর অপেক্ষা করে থাকতে হয়।সারা বছর খরা-বন্যায় কখনো পুড়তে হয়,কখনো ভাসতে হয়।এসবের চমৎকার বর্ণনা আছে।যখন বন্যা হয় তখনকার অবস্থা কবিতায় বর্ণনা করতে গিয়ে লিখেছেন:

“ভাসছে পশু ভাসছে মানুষ

ডুবছে ঘরের চাল

ভাসছে জীবন ভাসছে সংসার

অসহিষ্ণু মহাকাল।

বাড়ছে পানি বাড়ছে বিপদ

বাড়ছে পানির ধারা

বাড়ছে কান্না বাড়ছে হাহাকার

আত্মীয়-স্বজন হারা।”

এই চিত্র আমাদের খুব পরিচিত।প্রায় প্রতিবছরই বন্যার কারণে মানুষের দুঃখ দুর্দশার অন্ত থাকে না। গৃহহারা হয়ে কাটাতে হয় উদ্বাস্তু জীবন। শরণার্থী হতে হয় কোথাও।

কিন্তু যখন শরতের আবির্ভাব ঘটে।আকাশে উঁকিঝুঁকি দেখা দেয় মেঘের।তখন মন ভরে যায়।মহামায়ার আগমন বার্তাও সূচিত হয়।প্রকৃতিও সাহিত্যে প্রভাব ফেলতে থাকে। তখন কবির চোখে পড়ে:

“শরতের আকাশে আষাঢ়ের বৃষ্টিতে

মেঘ জমেছে বেশ

ঋতু বৈচিত্র্যের পালা বুঝি

ক্রমেই হচ্ছে শেষ!”

পৃথিবীতে শীতল পরশ স্বস্তি এনে দিতে পারে।কাশফুলের শ্বেত-শুভ্রতা ,সোনালি রোদের আকাশ মন ভরিয়ে দিতে পারে।মানব জীবনেও তখন বসন্তের আভাস জানান দেয়। মন গুনগুন করে ওঠে।তখন প্রেমিক মন নিজেকে প্রেমের কাছে উৎসর্গ করার জন্যও উন্মুখ হয়ে ওঠে:

“আমি তোমার জন্য

শিউলি ফুলের কলি হব

আমি তোমার জন্য

অন্যায় আবদারের বলি হব।

আমি তোমার জন্য

সদ্য স্বাধীন দেশ হব

আমি তোমার জন্য

প্রেয়সীর কালো কেশ হব।”

বিচক্ষণ কবি তাঁর প্রেমকে শুধু নারীর প্রেমেই বন্দি রাখলেন না,প্রকৃতির এবং স্বাধীন দেশের অর্থাৎ দেশপ্রেমের মধ্যেও সঞ্চারিত করলেন।কবিতাটি হয়ে উঠল চিরন্তন প্রেমের কবিতা। যার মধ্যে স্বাধীন দেশের স্বপ্নও বিরাজ করছে। একটি সনেটের মধ্যেও এই প্রেমের মহিমাকে অনুধাবন করে কবি লিখলেন:

“প্রেম যদি হয় সত্য মনে আসে জোর

বাধা পেরিয়ে তুমি পাবে নতুন ভোর।

জাগতিক প্রেম আছে সবখানজুড়ে

পাবে চির মুক্তি যদি না বাঁধো ভ্রমরে।”

সত্যিকারের প্রেম মহৎ হতে পারে,ত্যাগের মহিমায় তা চিরন্তন হতে পারে সে কথাই কবি বলতে চেয়েছেন।বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে কয়েকটি কবিতায় স্মরণ করেছেন। তেমনি ‘মা’-বোধ কবির চেতনায় কতখানি স্থান দখল করে আছে তাও বুঝিয়ে দিয়েছেন। কবি চেতনায় দেশ, দেশের মানুষ,প্রকৃতি,ঐতিহ্য এবং ইতিহাস গভীরভাবে রেখাপাত করেছে। তাই কবিতাগুলির মধ্যে এইসব প্রসঙ্গ বারবার ফিরে এসেছে।যা সত্য ,যা প্রকৃতি দত্ত,যা অবধারিত,যা শাশ্বত সেসবকে কবি কখনো অস্বীকার করতে পারেন না।তাই কবিতাতে উল্লেখ করেন:

“মানুষ সত্য,বিবেক সত্য

সত্য নদীর জল

জীবন সত্য,মরণ সত্য

সত্য জীবন-কোলাহল।”

এই সত্যকে মানলে প্রত্যেক মানুষেরই হা-হুতাশ করার কিছুই থাকে না।এখানে কবি দার্শনিক হয়ে উঠেছেন।তাই প্রকৃতির ঋতু বৈচিত্র্য,জীবনের ঋতু বৈচিত্র্যও সত্যের নিরিখে বিচার্য হয়ে উঠেছে। হেমন্ত ঋতুর উচ্ছ্বাসকে যেমন বরণ করেছেন,তেমনি পাতা ঝরার গানকেও গ্রহণ করেছেন।একদিকে ভোরের শিশিরে ক্লান্তি ধুয়ে সবুজ পৃথিবী জেগে উঠেছে,অপরদিকে পাতা ঝরার অবিরত নীরবতায় বনাঞ্চলের মন কেঁদে উঠেছে।বৃক্ষের প্রেমাবেগের সঙ্গে মানুষের মনের প্রেমাবেগও মিশে গেছে।প্রকৃতির ভাষাকেই কবিতা করে তুলেছেন আত্মনিমগ্ন সহমর্মী সংবেদনশীল এই কবি। এই কবিতাগুলি সেই কারণেই আমাদের বেঁচে থাকার,সুখ-দুঃখ হাসি-কান্নার এবং প্রকৃতিকে ভালোবাসার ও জীবনকে উপলব্ধি করার একান্ত অভিনিবেশের পাঠ বলা যায়।

🍁

আবার যেন হেমন্ত আসে:অসীমচন্দ্র পাল,বুনন প্রকাশন,৫০৪ কাকলি শপিং সেন্টার,জিন্দাবাজার,সিলেট ৩১০০,মূল্য ২৫০ টাকা।

অসীমচন্দ্র-পাল.
আবার যেন হেমন্ত আসে
তৈমুর খান
স্বপন কুমার বৈদ্য
স্বপন কুমার বৈদ্য
তৃষ্ণা বসাক
তৃষ্ণা বসাক
Learn for earn
Learn for earn
মহা রফিক শেখ
মহা রফিক শেখ
মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম (সোহেল)
মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম (সোহেল)
সাকিব আহম্মেদ
সাকিব আহম্মেদ
তফিল উদ্দিন মণ্ডল
তফিল উদ্দিন মণ্ডল
অভি বিশ্বাস
অভি বিশ্বাস
কাছেন রাখাইন
কাছেন রাখাইন
মোঃ আলী সোহেল
মোঃ আলী সোহেল
রতন বসাক
রতন বসাক
বারিদ বরন গুপ্ত
বারিদ বরন গুপ্ত
দেবাশীষ  চক্রবর্তী
দেবাশীষ চক্রবর্তী
প্রদীপ ভট্টাচার্য
প্রদীপ ভট্টাচার্য
বারিদ বরন গুপ্ত
বারিদ বরন গুপ্ত

আবার যেন হেমন্ত আসে তৈমুর খান অসীমচন্দ্র-পাল.

Dr. Taimur Khan

Leave a Reply